Sunday, December 8, 2013

নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ......

নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ 
তোমারই বন্ধনে
অনুভবি তোমায় আমার
প্রত্যেক  হৃদস্পন্দনে
ভালবাসায় ভেজা এ রাত
বাতাস যায় বয়ে
তুমি রবে - আমার প্রতিটি জন্মে
আমারই হয়ে

সময় ছুটে চলে যায়
অসীম আনন্দে
ডানা মেলে উড়ে যে যাই
সুনীল দিগন্তে

অবুঝ কথা বলতে যে চাই
গানেরই ছলে
তোমাকে চাই কারন তুমি
আমারই বলে

ভালবাসায় ভেজা এ রাত
বাতাস যায় বয়ে
তুমি রবে - আমার প্রতিটি জন্মে
আমারই হয়ে


এই কবিতাটা আমি ২০০০ - ২০০১ সালে  "Can you feel the love tonight" গানটি শুনে অনুপ্রানিত হয়ে লিখেছিলাম। 

Thursday, November 14, 2013

Rickshaw যখন Risky


আমার ছেলেবেলা যেহেতু মধ্য কলকাতায় কেটেছে, সেহেতু রিক্সা বলতে আমি হাতে টানা রিক্সা ই বুঝি। সাইকেল রিক্সা চাপবার সুযোগ হত হাওড়াতে আমার মেজ জেঠুর বাড়ি গেলে বা গুপ্তিপাড়া নামে এক গ্রামে আমার মামার বাড়ি গেলে। রিক্সাওয়ালারা সাধারণত বিহার থেকে আসা খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ - এবং হিন্দিভাষী। সব ভদ্রলোকদের "বাবু" ও ভদ্রমহিলাদের "মাইজি" বলে সম্বোধন করত। এবং মজার ব্যাপার হল এইসব ভদ্রলোক এবং ভদ্রমহিলারা রিক্সাওালাদের সাথে মারাত্মক হিন্দিতে কথা বলত, যেমন - 

" অ্যাই রিক্সাওলা (রিক্সাওয়ালা নয় কিন্তু), তালতলা বাজার যায়েগা? কিতনা লেগা? কেয়া বাত করতা হ্যায়! পনেরো টাকা? ইয়ার্কি পায়া হ্যায়? দশ টাকা মে রোজ যাতা হ্যায়।"

বা 

" অ্যাই রিক্সাওলা, বাজার (বাজারের থলে) থোরা তিনতলা মে উঠা দেনা হোগা। তুম হামারা পেছনমে পেছনমে আও।"  - ইত্যাদি 

তা এই রিক্সা নিয়ে কিছু মজার ঘটনার অভিজ্ঞতা আমার আছে যা আজ আমি লিখব।(কিছু চরিত্র স্বাভাবিক কারনে কল্পনার আশ্রিত - কিন্তু ঘটনাগুলো সব নির্ভেজাল সত্যি) 

এখানে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে - রিক্সাওালারা সাধারণত স্যান্ডো গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরে। এই তথ্যটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। 

আপনি বাঁচলে ............

দৃশ্যটা কিছুটা এরকম - দুজন বাঙালি ভদ্রমহিলা একটি রিক্সায় চেপে আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোডের ওপর দিয়ে যাচ্ছেন। দুজনেরই যাকে বলে বেশ ভারিক্কি চেহারা - মোটাও বলা চলে। রোগা প্যাটকা রিক্সাওালা চালাচ্ছে। সমস্যাটা সেখানে নয়। যারা কোনদিন জীবনে কিছু ভারি জিনিস তুলেছেন, তারা জানবেন যে ভারি জিনিস তোলবার সময় পেটের পেশীগুলো একটু শক্ত হয়ে যায় এবং পেটটা একটু হলেও ঢুকে যায়। এবার এই রিকশাওয়ালাটি বোধহয় কোমরের লুঙ্গির গিটটা একটু আলগা করে বেধেছিল হবে - ব্যাস, স্বাভাবিক নিয়মেই তা মাঝপথে খুলে যায় - এবং আরও স্বাভাবিক নিয়মে রিকশাওয়ালা রিক্সার হাতল ছেড়ে নিজের লুঙ্গি চেপে ধরে। 

পরিনাম - দুজন ভদ্রমহিলা কলকাতার রাজপথে, প্রকাশ্য দিবালোকে চালকুমড়োর মত গড়াগড়ি। রিকশাওয়ালা প্রচণ্ড যাকে বলে embarrassed and scared. ভদ্রমহিলারা আরও বেশি embarrassed এবং তারও চেয়ে বেশি embarrassed and entertained  হচ্ছে যে সব জনতা এই ঘটনাটির সাক্ষী হয়ে রইলেন।  


"কুছ নাহি হোগা"

আমি বোধহয় তখন ক্লাস থ্রি কি ফোরে পড়ি। একদিন স্কুলের পর আমি এবং আমার এক বন্ধু (নামটা উহ্যই থাক) বাড়ি ফিরব। আমার সাথে আমার দিদি এবং বন্ধুর সাথে তার মা। কোন রিক্সা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা রিক্সা পাওয়া গেল। কিন্তু চারজন একটা রিক্সায়? আমরা যাকে বলে চিন্তিত এবং indecisive.  
রিক্সাওয়ালা দাঁত বার করে বলল, " চিন্তা মাত কিজিয়ে। নয়া রিক্সা হ্যায়। কুছ নাহি হোগা। আপ দো রুপিয়া জ্যাদা দে দিজিয়েগা।"
প্রচণ্ড গরম - অগত্যা আমরা দুই হৃষ্টপুষ্ট বন্ধু এবং আমাদের আভিবাবকেরা সেই 'নতুন' রিক্সায় 'দুগগা' বলে চড়ে বসলাম। এবং সারাটা রাস্তা আমাদের আলোচনার বিষয় ছিল - 'রিক্সার বিভিন্ন দুর্ঘটনা' (জানিয়ে রাখি, আগের সেই রিক্সাওয়ালার হাতল ছেড়ে নিজের লুঙ্গি ধরার ঘটনাটাও আলোচনা হয়েছিল)

যাই হোক, ভালয় ভালয় আমরা বন্ধুটির বাড়ির সামনে পৌঁছলাম। স্বস্তির নিঃশ্বাসটা একটু তাড়াতাড়িই বোধহয় ফেলেছিলাম আমরা। রিক্সাওয়ালা রিক্সাটি মাটিতে রাখল এবং আমরা কিছু করবার আগেই রিক্সার দুটো হাতল ঠিক মাঝখান থেকে ভেঙ্গে গেল। 

পরিণাম - আমরা দুই বন্ধু যেহেতু কোলে বসেছিলাম, সেহেতু গড়িয়ে রাস্তার ধারে নর্দমায় ( সৌভাগ্যবশত গ্রীষ্মকাল থাকার দরুন নর্দমাটি শুকনো ছিল) এবং আমার দিদি এবং আমার বন্ধুর মা রিক্সার হাতল ধরে প্রানপনে ঝুলে থাকার চেষ্টা। 
যাই হোক সে যাত্রায় কেউই গুরুতর আহত হয়নি।
বেচারা রিক্সাওয়ালা!


লুঙ্গি ড্যান্স




Image Credit: Ei Samay epaper archives www.epaper.eisamay.com
Image Source : http://www.epaper.eisamay.com/epaper...-6/6315921.JPG

উত্তর এবং মধ্য কলকাতায় আজও কিছু জলের কল দেখা যায় যেখানে গঙ্গার জল আসে। এই কলগুলোকে সবাই 'গঙ্গাকল' বলে থাকে। আমাদের ছোটবেলায় বাসস্টপগুলো কংক্রিটের একটা ছাউনি মত হত। সেগুলো অধিকাংশ সময়ে ফুটপাথবাসিরা দখল করে রাখত। এবং অনেক গরিব মানুষের মত রিক্সাওয়ালারাও সেইসব বাসস্টপগুলোর নিচে রাত্রে শুত। 
জোড়া গির্জার ঠিক উল্টো ফুটপাথে যে বাসস্টপটা আছে, আজ থেকে বছর কুড়ি আগে সেখানেও একটা  কংক্রিটের ছাউনি ছিল, যার নিচে কিছু গরিব মানুষ এবং কিছু রিক্সাওয়ালা শুত। এবং স্টপটার পাশেই একটা গঙ্গাকল ছিল। সেই সময় স্টপটার পাশে দুর্গাপুজো ও কালীপূজো হত। তা সেই সময় এক কালীপূজোর রাত্রে আমি এবং আরও কয়েকজন বাজি ফাটাচ্ছি। (তখন শব্দ বাজির অফ এত নিষেধাজ্ঞা ছিল না আর হ্যাঁ - ক্যানিং স্ট্রিটে ১০০ টাকায় ১০০ খানা ভাল চকোলেট বোম পাওয়া যেত)।
তা আমরা কয়েকজন ছেলে মিলে বোম ফাটাচ্ছি তুবড়ি জ্বালাচ্ছি। রাত তখন একটা পেরিয়ে গেছে। চকোলেত বোমগুলো সামনে ট্রামলাইনের ওপর ছুঁড়ে দিচ্ছি। গাড়ি খুব কম তাই সমস্যা বিশেষ নেই। যাই হোক একটা বোম নিয়ে ধুপকাঠিতে সলতে ধরাতে গিয়ে দেখি প্রায় ৭০ মিটার দূরে একটা এম্বাস্যাডার গাড়ি আসছে। ভাবলাম বেশ দূরে আছে, বোমটা জ্বালিয়ে ছুঁড়ে দি - কিন্তু গাড়িটার স্পীডটা ঠিক বুঝতে পারিনি। বোমটা ছোড়ার পরে দেখলাম গাড়িটা হুশ করে সামনে দিয়ে চলে গেল আর বোমটা ট্রামলাইনেই ওপর দেখতে পেলাম না। কিছু দূরে গিয়ে যখন গাড়িটা বর্তমানের পুরনো অফিসটার সামনে পৌঁছেছে, তখন হঠাত গাড়ির সামনে বোমটা ফাটল। (অনুমান করতে পারি যে  চকোলেট বোমটা গাড়িটার সামনের গ্রিলে আটকে যায় এবং পরে ফাটে।) গাড়িটা হঠাৎ খানিকক্ষণ একেবেকে চলে থেমে গেল। তারপর চলে গেল। 
আমার তখনই বোঝা উচিৎ ছিল যে কিছু একটা ঘটবে। যাই হোক, এবার তুবড়িতে মন দিলাম। আগেই বলেছি যে বাসস্টপের কাছে একটা গঙ্গাকল ছিল। তা সেই জল যে ড্রেন দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল তার আশেপাশে স্বাভাবিক কারনে কিছু জল জমে ছিল। তাই তুবড়িগুলো জ্বালাবার পরে সেগুলো অই জলের মধ্যে ছুঁড়ে দিচ্ছিলাম। এরকমই একটা তুবড়ি হঠাৎ একটু স্পিন করে পাশের ফুটপাথে গিয়ে লাগল এবং তুবড়িটা ভেঙ্গে আগুনের প্রচুর ফুলকি সেই বাসস্টপের নিচে শুয়ে থাকা রিক্সাওয়ালাদের উপর গিয়ে পড়ল। 

পরিনাম - ঘুমন্ত অবস্থায় জামাকাপড়ের (পড়ুন লুঙ্গি) ভেতর ফুলকি ঢুকে যাওয়ায় তারা লাফিয়ে উঠে (কেউ কেউ লুঙ্গি খুলে) ফুলকি ঝাড়তে লাগল। 
আমার দেখা সেই প্রথম "লুঙ্গি ড্যান্স"
আমি তারপর কি করেছিলাম তা নাই বা বললাম।  








Sunday, November 3, 2013

বন্ধু, কি খবর বল ...

সুমন চট্টোপাধ্যায়ের লাইভ অনুষ্ঠান - নজরুল মঞ্চ।(বোধহয় প্রথম - ঠিক জানা নেই)
সালটা ছিল ১৯৯৩ কি ১৯৯৪, ঠিক মনে নেই। ১৯৯৩ হয়ত হবে কারন তখনও "বসে আঁকো" albumটি বেরয়নি। আমি তখন ক্লাস এইটের ছাত্র। ডন বস্কো স্কুলে পড়ি।
তার বছরখানেক আগে "তোমাকে চাই" রিলিজ করেছে এবং আমার মত অনেকের মাথা আক্ষরিক অর্থে ঘুরিয়ে দিয়েছে। আমার বাড়িতে তখন "তোমাকে চাই" এর দুখানা ক্যাসেট। প্রথমটা প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। তোমাকে চাই আর আমাদের জন্য গান দুটো মুছে গেছে - এতবার শুনেছি।
একদিন আমার বড়দি বলল, " সুমনের একটা প্রোগ্রাম হবে, যাবি?' যাব না মানে? আলবাত যাব। যাই হোক, আমার জামাইবাবুর কোন এক পুলিশ বন্ধু টিকিটের ব্যবস্থা করে দেবেন। তা আমরা মানে বড়দি, ছোড়দি আর আমি সেইমত সন্ধ্যে নাগাদ নজরুল মঞ্চে পৌঁছে গেলাম। সেকি ভিড়। এবং জামাইবাবুর সেই বন্ধু শেষমুহুর্তে ঘোষণা করলেন যে সাংঘাতিক চাহিদা, তাই দুটোর বেশি পাস জোগাড় করতে পারেননি। কোন কিছু বুঝবার বা ভাববার আগে সবাইকে হলে ঢুকে যেতে হল কারন অনুষ্ঠান শুরু হতে চলেছে। বড়দি যাবার আগে কোনমতে ব্যাগ খামচে কিছু টাকা বের করে দিয়ে বলল, 'দেখ যদি কোন টিকিট পাস, নয়তো বাসে করে বাড়ি চলে যাস।"
আচমকা ব্যাপারটা সামলে নিয়ে দেখি হাতে ১৫ টাকা। হ্যাঁ, ২২১ বা শ্যামবাজার - গোলপার্ক মিনিবাসে করে জোড়া গির্জার কাছে আমার বাড়ি নিশ্চয়ই যাওয়া যাবে কিন্ত টিকিট? আজও স্পষ্ট মনে আছে টিকিটের দাম ছিল ১৫, ২৫, ৩০ ও ৪৫ টাকা। Probability কাকে বলে তখন জানতাম না (আজও বুঝি না, বোঝার বৃথা চেষ্টাও করি না) কিন্ত এটা বেশ বুঝতে পারলাম, যে টিকিট পাবার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ।
যাই হোক, VIP Gate থেকে হেঁটে রাস্তায় এলাম। পরের দিন arithmetic পরীক্ষা। Class test. আমি চিরকাল যাকে বলে mediocre student. তার ওপরে অঙ্কে যাকে বলে বেশ আতঙ্ক। অঙ্কের টিচার Mr. Wheatley বিশেষ শুবিধের নন। (আমার সহপাঠীরা বোধহয় খুব একটা আমার সাথে এ ব্যাপারে অমত হবে না।) আগের class test গুলোতে খুব একটা ভাল নম্বর নেই।
কিন্তু এভাবে বাড়ি চলে যাব? কোন মানে হয়? যাই হোক, ভাবলাম, খোলা মঞ্চ, বাইরে থেকে নিশ্চয়ই আওয়াজ শোনা যাবে। একটা বসার জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। এইসব ভাবছি আর এদিক ওদিক চাইছি - হঠাৎ একজন ভদ্রলোক বলে উঠলেন, "একটা টিকিট আছে, বিক্রি করব।"
কিছু বোঝবার আগেই হাতটা উঠে গেল এবং চেঁচিয়ে উঠলাম, "আমি নেব।" তখনও জানি না কত টাকার টিকিট। আরও অনেকেই স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে এলেন, কিন্তু ভদ্রলোক আমার দিকে একটা অদ্ভুত চাহনিতে তাকিয়ে বললেন, " এই ছেলেটিকেই দেব"। (আমি কিন্তু তখনও জানি না ভদ্রলোকের কাছে কত টাকার টিকিট আছে।) যখন দেখলাম ভদ্রলোকের কাছে ১৫ টাকার টিকিট আছে তখন সবকটা দাঁত আপনাআপনি বেরিয়ে পড়ল। প্রোগ্রামটা আজ আমার দেখারই ছিল। কেউ শালা আটকাতে পারবে না।
দৌড়ে গিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখলাম, গ্যালারির সবচেয়ে পেছনের (নাকি সবচেয়ে উঁচু?) রো তে সিট। তাই সই। বসে ঘামটাম মুছলাম। দুই দিদিকে একদম সামনের সারিতে দেখতে পেলাম, এবং জীবনে প্রথমবার নজরুল মঞ্চের ভেতরটা ভাল করে দেখতে না দেখতে সুমন মঞ্চে প্রবেশ করলেন।
নীল ডেনিম শার্ট এবং নীল ডেনিম প্যান্ট (জিনসের প্যান্ট নামে বেশি পরিচিত) পরা সুমন পুরো নাইন্টি ডিগ্রি সামনে ঝুঁকে একটা প্রনাম করলেন। আমার সত্যি তখন মনে হয়েছিল যে লোকটার একটা বেশ ছুঁচলো ভুঁড়ি আছে এবং একটা যাকে বলে প্রমিসিং টাক আছে - তার এরকম একটা বাড়াবাড়ি না করলেই ভাল হত। যাই হোক, মঞ্চে দেখলাম একধারে একটা একুইস্টিক গীটার, এবং আরেকধারে তিনটে synthesiser, U - shape এ সাজিয়ে রাখা। যারা সুমনের অনুষ্ঠান দেখেছেন তারা বুঝতে পারবেন আমি কি বলছি। মানে সুমন যখন বাজাবেন, তখন তার সামনে একটা এবং যথাক্রমে দুদিকে দুটো synthesiser থাকবে।
প্রথমে ভাবলাম লোকটা বাজাবে কি করে? তারপর যা দেখলাম, তা বোধহয় বাংলা তথা ভারতের সংগীত পরিবেশনার ক্ষেত্রে এক বিপ্লব। (গানগুলো তো আগেই বিপ্লব এনে ফেলেছে।)
একের পর এক অনবদ্য গান, নজরুল মঞ্চের স্ফটিকস্বচ্ছ acousticএ সুমনের জলদগম্ভীর আওয়াজ - আমার জীবনের সেরা সন্ধ্যেগুলোর মধ্যে একটা। একটা লোক - শুধু একটা লোক স্রেফ গীটার বাজিয়ে গেয়ে চলেছেন, কথা বলছেন দর্শকদের সাথে, গল্প বলছেন, আবার মঞ্চের অন্যদিকে হেঁটে গিয়ে synthesiser বাজিয়ে গাইছেন, rhythm programmerএ beats  বাজছে। যখন interlude এর সময় আসছে তখন একটা হাথে সামনের synthesiser আর অন্য হাথে হয় ডানদিকের নয় বাঁদিকের synthesiserটা বাজাচ্ছেন। অনবদ্য।যে গানগুলো গেয়েছিলেন তার কিছু কিছু মনে আছে - পাপড়ির গান, তোমাকে অভিবাদন, গ্যালারিতে বসে গ্যালিলিও, বন্ধু কি খবর বল (টিকিটে এই কথাটা লেখা ছিল, তখনও জানতাম না যে এটা আসলে একটা অনবদ্য গান), এবং আরও অনেক গান।
এবার যাকে বলে Interval.
দেখলাম কেউ মোটামুটি নড়ছে না। দিব্যি করে বলছি, লোকটাকে আরও কাছ থেকে দেখব আর শুনব বলে ভাল ছেলের মত হেঁটে VIP Gate দিয়ে ঢুকে সামনের সারিগুলোতে দিদিদের কাছাকাছি একটা সোফায় গিয়ে বসলাম। আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না।
Interval এর পরে সুমন আবার এলেন। আবার পুরো হল জাদুতে ভেসে গেল। কখন যে নটা বেজে গেল আমরা কেউই বুঝতে পারিনি। অনুরোধ আর থামতেই চায় না। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। তারপর এক অসাধারন ঘটনার সাক্ষী রইলাম জীবনে প্রথমবার - আমরা সবাই। সুমন হঠাৎ বলে উঠলেন, "আসুন আমরা সবাই মিলে একটা গান করি। রবীন্দ্রনাথের গান।" সবাই বেশ অস্বস্তিতে। মানে রবীন্দ্রসঙ্গীত, আবার তাও আবার গীটার আর synthesiser দিয়ে? মানে সুমন তো ঠিক রবীন্দ্রসঙ্গীত গায় কি? এক কথায় puritan বাঙালি খুব চাপে।আবার যে লোকটা এরম ফাটাফাটি গাইল, তাকে ঠিক খরচের খাতায় ফেলাও যাচ্ছে না।
সুমন বললেন, " আসুন আমরা তুমি কেমন করে গান কর হে গুণী, এই গানটা গাই।" আমি গানটা সেদিন জানতাম না এবং তার জন্য নিজেকে কোনদিন ক্ষমা করতে পারিনি। তিন - সাড়ে তিন হাজার লোক একসাথে গান গাইলে কি হতে পারে তার জাদুকরি অভিজ্ঞতা সেদিন আমার প্রথম হয়েছিল। সুমন দুটো লাইন শুধু পুরুষদের গাইতে বলছিলেন, আবার তার পরের দুটো লাইন শুধু মহিলারা গাইছিলেন। আবার দুটো লাইন সামনের সারির সবাই গাইছিলেন আবার তার পরের দুটো লাইন পেছনের সারির সবাই গাইছিলেন। পরে অনেক অনুষ্ঠানে সুমন এই ভাবে সবাইকে গাইয়েছেন, একসাথে গেয়েছেন, কিন্তু সেদিন প্রথমবারের একসাথে গান গাওয়াতে আমিও সবার মাঝে ছিলাম। Harmony কাকে বলে সেদিন প্রথম অভিজ্ঞতা হয়েছিল। গানের শেষে সুমন হাউহাউ করে কেঁদেছিলেন। আমাদেরও সবার চোখ আবেগে চিকচিক করেছিল। একরাশ ভাললাগা আর কিছু অনবদ্য স্মৃতি নিয়ে সেদিন বাড়ি ফিরেছিলাম। তার রেশ আজও কাটেনি। আজও সেই সন্ধ্যার কথার মনে করলে মন ভাল হয়ে যায়। এক কিশোরের arithmetic পরীক্ষাকে অগ্রাহ্য করে, বিদ্রোহ করে, ভাগ্যের সাথে লড়ে, ১৫ টাকার জুয়া খেলে এক জাদুকরি সন্ধ্যার সাক্ষী হয়ে থাকা।
Yes! I was a part of that magical evening. I was a part of history,
সুমনবাবু, ধন্যবাদ!
দেখা হবে তোমায় আমায় অন্য গানের ভোরে - এই আশায় থাকলাম। ভাল থাকবেন।

Wednesday, August 28, 2013

ঘুমপাড়ানি গান

শব্দের ইতিহাস জানার জন্য একটা বিষয় আছে বলে আমি জানি। ইংরেজিতে তাকে Etymology বলে। কিন্তু আমাদের দেশে বিভিন্ন ভাষায় কিছু অনবদ্য ঘুমপাড়ানি গান আছে যা শুনলে সত্যি জানতে ইচ্ছে করে যে এই সব গানগুলোর উৎপত্তি কোথায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই সব গানগুলোর ইতিহাস জানার কোন উপায় অন্তত আমার জানা নেই।

আমাদের ছেলেবেলায় এরকম বেশ কিছু গান শুনে আমরা সবাই ঘুমিয়েছি, কিন্তু আজ আমরা কোন এক অজ্ঞাত কারণে আমরা সেই সব গান ভুলে গেছি - এ বড় দুঃখের। আমাদের মা, কাকিমা, জেঠিমা যারা আজও বেঁচে আছেন, একমাত্র তাঁরাই আজ এই গানগুলো জানেন।

এই ধরনের বাংলা গানের কথা উঠলে যার কথা মনে পরাটা অবশ্যম্ভাবী তিনি হলেন আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অনবদ্য গায়কী এবং মায়াবী কণ্ঠস্বর আপনা থেকেই আমাদের ঘুমের দেশে নিয়ে যায় - যেখানে শুধু নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পরা যায়। অথচ দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে আজকের বোধহয় কোন শিশুই তাঁর গান শোনেনি। আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান যে তাঁর গান শুনে আমি ছোটবেলায় ঘুমোতে গেছি। Gramaphone Mono sound এ তাঁর মায়াবী কণ্ঠস্বর যে কি জাদু সৃষ্টি করত তা মনে পরলে আজও এই বয়েসে এক অনাবিল প্রশান্তি নেমে আসে।

আমরা অনেকেই আজ বাবা কিংবা মা হয়ে গেছি এবং আমাদের অনেকেরই সন্তানরা ঘুমোবার সময় জ্বালাতন করে। একটু ধৈর্য ধরে যদি তাদের আমরা এই সব গান এবং ছেলেবেলায় শোনা গল্পগুলো শোনাই, তবে তারাও সেই একই ভাবে ঘুমের দেশে পাড়ি দেবে যেমন আমরা তাদের বয়েসে দিতাম।

অথচ এই ধরনের ঘুমপাড়ানি গানগুলো, আমার জানা এমন কোন জায়গা নেই যেখানে একসাথে পাওয়া যায়। যদিও বেশ কিছু CD/ DVD পাওয়া যায় যেখানে বিভিন্ন ছড়ার গান এবং ঘুমপাড়ানির গান আছে। সৌভাগ্যক্রমে সেই সব Youtube এও পাওয়া যায়। তবু কিছু গান আছে যা কোথাও record বা নথিভুক্ত করা নেই।

যদি কেউ কখন  আমার নথিভুক্ত করা ঘুমপাড়ানি গানগুলো ছাড়াও অন্য আরও গান জানেন, যেগুলো youtube বা CD/DVD/internetএ নেই, তবে আমায় জানাতে ভুলবেন না please. আমাদের প্রজন্মের সবাইকে আমার একান্ত অনুরোধ যে আমরা যেন এই সব গানগুলো হারিয়ে না ফেলি।

দুটো গান আমার এই মুহূর্তে মনে পড়ছে যা Youtube এ আমি পাইনি। মনে হয় কোথাও নেই। এবং খুব সম্ভবত আমাদের মা - কাকিমাদের সাথে এগুলো হারিয়ে যাবে।

আয় আয় আয় 
শেয়ালে বেগুন খায়
তারা নুন কোথায় পায়
নদীর চরের বালিগুলো 
নুন ভেবে খায়

*******************


খোকা ঘুমল পাড়া জুড়ল

বর্গী এলো দেশে
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
খাজনা দেব কীসে
কীসের মাসি কীসের পিসি
কীসের বৃন্দাবন
এতদিনে জানতে পেলাম
খোকা আমার ধন


( ঊপরের গানটিতে "খোকা" কথাটির জায়গায় সাধারণত যে ছোট ছেলে বা মেয়েটির জন্য গানটি গাওয়া হচ্ছে, তার ডাকনাম ব্যবহার করা হয়। সকল feministদের কাছে মার্জনা চেয়ে আমি "খোকা" কথাটি ব্যবহার করলাম।)
এই গানটির একটা version যদিও youtube এ পাওয়া যায়, তবু আমি যে গানটি শুনে বড় হয়েছি, সেটাই উপরে লিখলাম। 

পুনশ্চ  ঃ

একটা গানের কথা এখানে না বললে আমার এই লেখাটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এই গানটা যদিও youtube এ আছে তবুও এই গানটার মানে আমার কাছে অনেক। আমার বাবার একটা HMV Fiesta gramaphone record player ছিল। সেটি আজও চলে, যদিও আওয়াজটা নষ্ট হয়ে গেছে। Speakerটা একটা বিচ্ছিরি রকমের খ্যারখ্যার করে। তবুও আমি প্রানে ধরে ওটা ফেলতে পারিনি। আমার বাবা আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি গান গেয়ে আমায় ঘুম পাড়াতেন যার স্মৃতি আজও আমার মনে উজ্জ্বল। এই গানটি আমি বহুবার ছেলেবেলায় বাবার কোলে বসে এই একই record playerটাতে শুনেছি। গানটির কথা নিচে রইল - 


ছোট্ট পাখি চন্দনা

ও আমার ছোট্ট পাখি চন্দনা
একটি শিসে জাগিয়ে গেল
লাগছে তাও মন্দ না
ও আমার ছোট্ট পাখি চন্দনা

ছোট্ট চাঁপার কলি শোন

শোন তোমায় বলি শোন
শোন তোমায় বলি
আমার এ মন মাতিয়ে গেল
সে শুধু তার গন্ধ না
লাগছে তাও মন্দ না
ও আমার ছোট্ট পাখি চন্দনা

কালো দীঘির কোলে কোলে

ছোট্ট শালুক দোদুল দোলে
ছোট্ট শালুক দোলে
তারও চলে রাত্রি জেগে
দূরের চাঁদের বন্দনা
লাগছে তাও মন্দ না
ও আমার ছোট্ট পাখি চন্দনা

ছোট্ট দুটি কথা

ভরা মুখরতা
আমার হৃদয় দুলিয়ে দিল
সে শুধু তার ছন্দ না
লাগছে তাও মন্দ না
ও আমার ছোট্ট পাখি চন্দনা
একটি শিসে জাগিয়ে গেল
লাগছে তাও মন্দ না
https://www.youtube.com/watch?v=ZljyCKOIvCE




আমার পুত্রকে যেদিন কোলে বসিয়ে এই গানটি শোনাচ্ছিলাম, যেমন আমি ওর বয়েসে আমার বাবার কোলে বসে এই একই record playerটাতে শুনতাম, সেদিন এক অদ্ভুত ভালোলাগার সাথে বাবার কথাও খুব মনে পড়ছিল। 

Wednesday, August 7, 2013

ছোট্টগল্প - একটা নতুন ধরনের (Short Story - a new format)

আমাদের বাড়িতে একবার অধ্যাপিকা মৌ চট্টোপাধ্যায়, অধ্যাপক দেবপ্রিয় সান্যাল, লেখিকা পারমিতা ঘোষ মজুমদার, এবং আমার বন্ধুবর শুভায়ন দে আড্ডা দিতে আসেন। সেই সন্ধ্যায় আড্ডার শর্ত ছিল যে আমরা অর্থাৎ সুভায়ন, আমার স্ত্রী দিপ্তী এবং আমি একটি ছোটগল্প লিখে শোনাব। আমি কোনকালেই কিছু লিখি নি তাই ভেবেছিলাম কেন লোক হাসাব, কিন্তু সেদিন দুপুরে চান করতে গিয়ে হঠাৎ এই গল্পটা মাথায় এল। ঝোঁকের মাথায় লিখেও ফেললাম।

পরে আড্ডায় গল্পটা শুনিয়ে আমায় শুনতে হয়েছিল - "এটা আর যাই হোক, ছোটগল্প হয়নি।"

তাই আদর করে এর নাম দিয়েছি - ছোট্টগল্প।

গিন্নির প্রচুর চোখ রাঙ্গানির পর আজ আমার ব্লগে এটা দিলাম। কোন বিশেষ উদ্দেশ্য ছাড়াই।


ছোট্টগল্প 


তার সুরটা – তার সুরটা চেনা চেনা বলে ছোঁয়াচ লাগে

কলকাতাতে সন্ধ্যে হবার একটু আগে... 


‘ বাবু একটা টিকিট নাও না’। চমকে তাকিয়ে দেখি Calcutta Rowing Clubএর signalএ দাড়িয়ে থাকা আমার গাড়ির জানলার পাশে এক মহিলা। আজ একটু বাদলা বাদলা ছিল তাই জানলার কাঁচ নামিয়ে আসছিলাম। আর সেটাই হল কাল। মহিলা একটা ধামসা লটারির টিকিট আমায় গছাতে চায়। ‘মাফ কর’ বলবার জন্য হাতটা কপালে উঠতে গিয়েও থমকে গেল।

একই দিন একই রাত সব দেশে আসে যায়
প্রথম মায়ের চুম্বন হয়ে পৃথিবী বাঁচতে চায় মহিলাকে দেখে 


কেমন জানি ‘জালি’ মনে হল না। কেন জানি মনে হল না যে নেশাভাং করার জন্য ঠকিয়ে কিছু বাজে লটারির টিকিট বিক্রি করছে। ভাল ঘরের মহিলা অভাবে পড়েছে বলেই মনে হল। তথাকথিত কোনও সেন্টিমেন্টাল গল্প নয়, বরং চেহারায় একটা সম্ভ্রম এবং তার এই কাজ করার জন্য কোথাও একটা কুন্ঠা আছে বলে মনে হল।

‘কত দাম?’

‘তিরিশ টাকা। দশ কোটি টাকা first prize’।

First prize উচ্চারণটা স্পষ্ট Englishএ। আমি তাকালাম। Signalএর timerএ 15 second বাকি। Wallet খামচে ৫০ টাকার নোট বেরোল।

‘ তোমার পছন্দ মত একটা টিকিট দাও। যে কোন একটা’।

 টিকিটের বইটা হাতড়ে মাঝখানের একটা টিকিট ছিঁড়ে আমার হাতে দিল।

‘ বাবু তুমি জিতবে দেখে নিও’। ‘বেশ! তাহলে তুমি বাকি কুড়ি টাকাটা রেখে দাও’

আমি হাসলাম। Signal এর রঙ সবুজ। গাড়ি চলল Lake Gardens এর রাস্তা ধরে।

কখন সময় আসে জীবন মুচকি হাসে
ঠিক যেন পরে পাওয়া চোদ্দ আনা... 

আজ আবার সকাল থেকে অবিশ্রান্ত বৃষ্টি হচ্ছে, রাস্তায় জল থৈথৈ, তাই –

ধরা যাক আজ রোববার কোন কাজ নেই 
ধরা যাক আজ রোববার কোন তাড়া নেই 
শুয়ে থাকা যাবে যত চাই সারা বিছনায় 
বেশ করব, শুয়ে থাকব, আজ রোববার 

আজ অফিস কাট। খিচুড়ি, মামলেট আর বেগুনি। খবরের কাগজটা ওলটাচ্ছিলাম, হঠাত মনে পড়ল টিকিটটার কথা। খুলে দেখি গতকাল রেজাল্ট বেরিয়ে গেছে। গতকালের কাগজটা খুলে দেখি ‘কেল্লা ফতে’।  
বেড়ালের ভাগ্যেও শিকে ছেঁড়ে তাহলে!

 ওই দূর অঢেল সবুজের সমারোহ 
পাহাড়ের গায়ে হাল্কা নরম রঙ 
রোদ্দুরে শুধু ঝলমলে বিদ্রোহ রোদ্দুরে 
শুধু দিগ্বিজয়ের ঢঙ রোদ্দুরে 

 তারপর কি করে মিডিয়ার নজর এড়িয়ে, IT কেটে সাত কোটি টাকা Fixed Deposit করে রাখলাম, তারপর চাকরি ছাড়লাম এবং পুরো ব্যাপারটা গোপন রাখলাম, সেটা বলতে গেলে একটা আলাদা গোটা বড়গল্প হয়ে যাবে। তা আমি এখন বেশ আছি। তা মাস গেলে লাখ পাঁচেক টাকা এমনি এমনি এলে কেই না থাকে? বেশ একটা ফুরফুরে ভাব। খাচ্ছি দাচ্ছি বাঁশি বাজাচ্ছি। আর প্রচুর ঘুরছি।

গাঙ্গুর হয়েছে কখন কাবেরি কখন বা মিসিসিপি
কখন রাইন কখন কঙ্গো নদীদের স্বরলিপি 

 অনেকগুলো সখ যেগুলো অপূর্ণ ছিল সেগুলো পূরণ করেছি – যেমন গীটার শিখেছি, পিয়ানো শিখেছি – খারাপ বাজাচ্ছি না। না, Band খোলার কোন ইচ্ছে নেই। সবকিছুতেই একটা ‘করতে পারি কিন্তু কেন করব’ ভাব। এতে একটা অন্য রেলা আছে কিন্তু। বেশ ভালই আছি। কখন Alaska বেড়াতে যাচ্ছি, কখন Louvre দেখতে যাচ্ছি, আবার কখন Aurora Borealis দেখতে যাচ্ছি। মানে basically গরম দেশগুলো avoid করছি। সারা জীবন তো ঘামতে ঘামতেই গেল। তাই আর কি। হে হে! আর হ্যাঁ – কলকাতা ছাড়তে পারিনি।

বেদম traffic jam ঠাণ্ডা salami ham
Chocolate Cadbury Mother Dairy
আমাদের জন্য – সব আমাদের জন্য

প্রচুর air miles জমছে foreign trips গুলো থেকে। সেগুলো ভাঙিয়ে domestic trip গুলো করি। হে হে। মানে মধ্যবিত্ত mentality টা যায়নি আর কি। যাই হোক। Online একটা program থেকে 30 days এর মধ্যে Spanishটা শিখে ফেলেছি। তাই ভাবলাম Spainটা ঘুরেই আসি। তা মাদ্রিদের রাস্তায় একটা cafeতে বসে Toast আর caviar খাচ্ছি। হাতে আমার গিটার আর পেটে চারটে single malt আর গলায় –

The wind is knocking on the window pane 
A wish! A wish to change again 
The wind whispers come and change with me 
Things change, keeps changing silently

চারদিকে হাল্কা একটা ভিড়, পেটে আরও এক পাত্তর single malt, বেশ একটা রূপকথা রূপকথা ভাব, হটাৎ phoneটা বেজে উঠল।
আমার কলকাতার vodafoneএর numberটা international roamingএ থাকে। Phoneটা তুলে দেখি “Kanaida Gym Trainer”। সত্যিই তো। কলকাতায় এখন প্রায় সকাল সাড়ে ছটা বাজে। কানাইদা কে কি বলতে ভুলে গেছি যে আমি কলকাতায় নেই তাই আজ আর exercise করব না। এদিকে single maltএর দৌলতে চোখের পাতা ভারি হয়ে গেছে, চোখের পাতা টেনে খুলে বললাম, ‘হ্যালো’
ওপাশ থেকে আওয়াজ এল, ‘দাদা দশ মিনিটের মধ্যে আসছি, আপনি নামুন’।
‘কানাইদা, আজ শরীরটা ভাল নেই, আজ থাক’।
‘ ও। ঠিক আছে। তাহলে মঙ্গলবার কিন্তু .........’
‘ ঠিক আছে’।
দশ কোটি টাকার স্বপ্ন ভেঙে গেলে কার আর রোববার সকালে exercise করতে ভাল লাগে। কাজের লোক এসে চা দিয়ে গেল। সেই bad tea খেয়ে মাথা ধরাটা একটু ছাড়ল। মুখটা ভেটকে বসে রইলাম পটির অপেক্ষায়।

একটুর জন্য কত কিছু হয়নি 
ক্ষয়ে যাওয়া আশা তবু পুরোটা ফুরয়নি। 
একটুর জন্য কত কিছু হয়নি 
ক্ষয়ে যাওয়া আশা তবু পুরোটা ফুরয়নি।




 ** গানগুলো সব সুমন চট্টোপাধ্যায়  তথা অধুনা কবির সুমনের সৃষ্টি। আমি তার গানের কথাগুলো ব্যবহার করেহি মাত্র। এটা আমার তাঁর প্রতি স্রদ্ধা জানাবার এক বিনম্র চেষ্টা মাত্র।